আমার মাঝে তার অস্তিত্বের একি অপূর্ব সমাবেশ আজ

আমার মাঝে তার অস্তিত্বের একি অপূর্ব সমাবেশ আজ,
চোখ তার, চুল তার, তার সব রঙের অদ্ভুত ঘনঘটা।
কন্ঠের সে এক অপার্থিব সুরলহরী, সবটাতেই সে আর তার মাঝে আমি,
কল্পনা তার যেন মরুঝড়
আর বনবাদাড়ে গাছের শাখায় শাখায় বাতাস
যেন এক হাহাকার,
তৃষাতুর চাহনি, আর মন
বিশ্বব্রহ্মাণ্ড ঘুরেফিরে কোন এক অজানার খোঁজে,
তার মাঝে সে বড্ড একা, নিজের মাঝে খোঁজে নিজেকে
অথবা আমাকে?
কি সে অদ্ভুত হাসি তার, শুনেছি তার কান্নাও আমি,
ডুকরে কেঁদেছিল কয়েকবার, আমিও কেঁদেছি,
তার কোমলতা ছুঁয়েছি আমি,
তার কঠোরতার কাছে পরাজিত হয়েছি একদিন।
ভুলগুলো যা ছিল তার সবটাই আমার,
ভালোবেসেছিলাম,
তারপর –
ধ্বংস হয়েছিলাম।

++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++

কিছু কথা না বলা থাক
কিছু জানার ছিল, অজানা থাক।

বিনিদ্র রাত,
নির্জনতার কোলাহল ছাঁপিয়ে
দূরে রাস্তায় প্রহরীর বাশিঁর এক তীক্ষ্ণ আর্তনাদ।
শুনতে পাই
ওই যে কুকুরের দল – সব রাতের সন্তানদের অপূর্ব এক ঐক্য।

আমি এই আমার মাঝে আমার মতন,
সে সেই সুদূর কোথাও তার মতন।

অনেকদিন হল অসময়ে ফোনের কোলাহলে ঘুম ভাঙে না,
অনেকদিন হল কারো ছোঁওয়ায় উষ্ণতা জাগে না,
অনেকদিন হল কারো ডাকে সাড়া দেয়া হয় না,
অনেকদিন হল কারো মাঝে হারায় না।

তবুও অপেক্ষা করি
একটা শব্দের
অপেক্ষা করি
একটা কন্ঠের
অপেক্ষা করি
না পাওয়াকে পাবার।

অপূর্ব এই ছন্দপতন আমার
ফিরে আসতে পারব না
ফিরে আসতে চাই না আমি আর।

++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++++

কারণে অকারণে মনে পড়ে যায়,
ঠোঁটের আশেপাশে শব্দের উদ্দেশহীন ঘোরাঘুরি-
হঠাৎ যেন বিনা নোটিশে মিলিয়ে যায় হাওয়ায়,
ফিসফিসানি হয়ে শব্দের কোলাহলে,
আর চোখ যেন এক কানাগলি আজ –
দৃষ্টি বাধা পড়ে অদৃষ্টের কালো পর্দায়।
কিন্তু আয়নায় কি দেখতে পেলাম ওটা?
কে যেন উঁকি দেয় চেনা জানা,
কি যেন বলতে চায়।
চোখ কান পেতে থাকে শুনবে সে আশায়,
কান আশাহত হয় নিরাবতার চিৎকারে।
বসে থাকি অথর্বের মত,
চোখের পাতাগুলোর শ্বাস ভারি হয়ে আসে-
বুঁজতে থাকে আস্তে আস্তে,
ঠিক তখনই যেন শুনতে পাই
ধীর পায়ে কে যেন এগিয়ে আসে,
খুব চেনা গন্ধ নাকে লাগে,
হাতের মুঠোয় ঠিক যেন সেই আঙ্গুলের বাঁধন,
চোখ খুলে যায়,
চেতনা ফিরে পাই।
আরে! এই আমিও স্বপ্ন দেখি?
কিন্তু আমি যে পাথরের ভঙ্গুর এক মুর্তি,
আমার যে স্বপ্ন দেখার অধিকার নাই।
তাহলে কেন আমি?

~ আমার ডায়েরীর পাতা থেকে

Advertisements

আমাদের গল্প

মার্চ মাসের ১৮ তারিখ। সকালটা সেদিন শুরু হয়েছিল একটা অদ্ভুত অনুভূতি নিয়ে। কি যেন একটা চাপা আনন্দ কাজ করছিল। নিজের অজান্তেই অনেকবার মুখে হাসি আসছিল সেদিন। কেন? যদি বলি যে সেদিন প্রথম দেখা হল আমাদের। আমি ঢাকাতে থাকি আর তার এলাকা মিরপুরে, তার বাসার কাছেই থাকি শোনার পরে ওর যে সে কি আনন্দ। ভাবছিলাম কেন? আজ জানি আমি কেন।

পরিচয়টা কিভাবে?

ফেসবুকে পরিচয় আমাদের।

দেখা করব যেদিন ভেবেছিলাম আর দেখা করে বলব আমার অনুভূতিগুলো, সেদিন থেকেই কোন এক অজানা কারণে তাকে চলে যেতে হয়েছিল। ভাবিনি ফিরে আসবে সে।

একটা বছর পেরিয়ে গেল। মাঝে একবার কি দুবার কথা হয়েছিল ওর সাথে আমার। সেটা অনেক ফরমাল কথাবার্তা। সেখানে কোন অনুভূতির ছোঁয়া ছিল না। আমিও আর চাইনি বলতে। বলতে পারিনি একটা বছর আগে যে আমি ভালোবাসি তোমাকে।

অফিস থেকে বের হলাম। ভেতরের চাপা আনন্দটা ধরে রাখার বৃথা চেষ্টা করে যাচ্ছি।

নামলাম বাস থেকে মিরপুর ১০। ফোন দিলাম কোথায়। প্রথম কণ্ঠ শুনলাম তার। বলল আমি বইয়ের দোকানগুলোর কাছে। কিভাবে যেন অনেকের মাঝে থেকে পেছন থেকে বুঝলাম ওটাই ও ছিল।

গিয়ে বোকার মত বললাম – “কি অবস্থা”?

ওর বই কেনা শেষ হল আর আমরা রিকশা নিলাম। কাছেই একটা ফুচকার দোকানে বসলাম।

কোন এক অজানা কারনে সেদিন ওকে রাজ্যের লজ্জা পেয়ে বসেছিল।

আর আমি? মন্ত্রমুগ্ধের মত ওকে দেখছিলাম আর ভাবছিলাম – একটা মানুষ এত সুন্দর কিভাবে হয়?

মনে পড়ছিল সেদিন কাজী নজরুল ইসলামের “শিউলি মালা” গল্পের একটা লাইন – “চোখে এক ক্ণা বালি পড়তেই যদি চোখ এতো জ্বালা করে, চোখে যার চোখ পড়ে তার যন্ত্রনা বুঝি অনুভুতির বাইরে।”

আজহারের শিউলিকে দেখে ঠিক এ কথাটা কেন মনে হয়েছিল সেদিন ওর সামনে বসে ফুচকার দোকানে অন্তর থেকেই অনুধাবন করলাম কথাটার অন্তর্নিহিত অর্থ।

দুইটা ঘন্টা বকবক করলাম। সেদিন চেয়েছিলাম সময়টা থেমে যাক।

সময় থামে নি। আমাদের গল্পটাও না।

অনেকটা পথ হেঁটেছি দুজন একসাথে। কখনো এক মুহুর্তের জন্যেও ক্লান্তি আসে নি আমার। আসবেও না আমি জানি।

আজ অনেকটা দিন পেরিয়ে এসে আজ আমরা পেয়েছি একজন অন্যজনকে। পেয়েছি কোন সমাজের নিয়মকানুন মেনে না। এক স্বপ্নের দুনিয়াতে আমাদের বাস এখন। দূরে থাকি ওর থেকে আমি। সমাজ কিছু প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে দিয়েছে আমাদের জন্য। তাই দূরে থাকি।

কিন্তু ভালোবাসি পাগলের মত। এটা তিক্ত এক সত্য আমাদের গল্পের।

একটা অপেক্ষা। অপেক্ষা সেদিনের যেদিন আমরা হয়তো কাছে আসব একজন অন্যজনের। নাহলে এভাবেই থাকব। থেকে যাব হয়তো।

এটাই আমাদের গল্প।

~ আমার ডায়েরীর পাতা থেকে