নিদ্রাহীন এই আমি

নিদ্রায় কাতর চোখ আমার
নিদ্রাহীন এই আমি।
তোমার স্বপ্ন –
আমার বালিশের নিচে লুকিয়ে রাখে রাতগুলো।
নিদ্রাহীন এই আমি,
নিদ্রাহীন এই চোখে আমার
আজ তুমি নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে থাকো,
গভীর এই নিস্তব্ধ রাতগুলোতে
কেউ থাকে না
শুধু তুমি থাকো আমার পাশে,
নিদ্রাহীন এই আমি
আর নিদ্রাহীন এই রাতগুলো
ফিসফিস করে শুধু তোমার গল্প শুনিয়ে যাই
নিদ্রাহীন এই আমি
নিদ্রাহীন এই রাতগুলো আজ আমার।

// আমার ডায়েরীর পাতা থেকে

Advertisements

ডায়েরীর পাতা থেকে…

আমি স্বপ্ন দেখতাম না জানো তুমি?
জীবনে আমার কষ্টের সবকটা অধ্যায় তোমার পড়া।
কিছু দায়িত্ব কর্তব্য আছে শুধু সেগুলো পালন করতে হবে এটাই জানতাম আমি।
নিজের জন্য কখনো কিছু চাইনি সৃষ্টিকর্তার কাছে থেকে পর্যন্ত।
একটা সময় চাইনি যে তা অস্বীকার করব না।
চেয়ে চেয়ে না পেয়ে ক্লান্ত হয়ে চাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলাম অনেক আগেই।
তারপরও মনের গহীনে কোন এক অজানা কারণে আশার একটা প্রদীপ যেন নিভু নিভু জ্বলত এই ভেবে হয়তো আছে কিছু একটা অপেক্ষা করে আমার জন্য।
আমাকে ফিরতে হবে না হয়তো খালি হাতে।
কিন্তু অপেক্ষার প্রহর আমার ফুরাতো না হয়তো কোন দিনও যদি না তোমার দেখা পেতাম।
জীবনে আমি আমার জন্য কিছুই চাইনি শুধু তোমাকে ছাড়া।
হারিয়ে ফেলব এই ভয়টা ছিল সবসময় কিন্তু হারাতে দেব না এটা ভেবে নিয়েই আমি নিজেকে উজাড় করেছিলাম তোমার মাঝে।
কিন্তু নিয়তি নির্মম। পারিনি ধরে রাখতে।
চলে গেলে। একটা বারের জন্য সামনে দাঁড়াতে দিলে না পর্যন্ত।
চেয়েছিলাম সামনে দাঁড়িয়ে অথবা নতজানু হয়ে তোমাকে একটা বার চাইব তোমার কাছে।
সেটা আর হয়ে উঠল না। একটা ঝড়ো দমকা হাওয়া তোমাকে মুহুর্তে উড়িয়ে নিয়ে গেল যেন।
অনেকটা দিন কেটে গেছে তোমাকে দেখি না আমি।
কেঁদেছি অনেক। জীবনে একটা বার সুখের দেখা পেয়েছিলাম।
শাকিল, সীমান্ত ওরা প্রায়ই বলত যে আমাকে গত তিন বছরের জানা পরিচয়ে এত আনন্দে থাকতে দেখেনি ওরা কখনোই।
কেমন যেন হঠাৎ বদলে গেছি আমি।
নিরবতার মাঝে একটা শান্তি খুঁজে পাই আজ আমি।
মানুষের সঙ্গ আজকাল অসহ্য লাগে প্রায়ই।
চেয়েছো চলে যাই তোমার জীবন থেকে।
চলে গিয়েছি আমি। শুধু পার্থক্য এটাই যে শুধু তুমি না, আমি সবার জীবন থেকে বিদায় নিয়েছি।
আমার কবিতা আর কেউ পড়বে না।
আমার অনুভূতিগুলো শব্দের আশ্রয় নিলেও সে শব্দগুলো আর কেউ পড়বে না কোনদিন।
প্রতিক্ষা করব বলেছিলাম আমি।
তাই করছি আর করব।
আজ সকালে হঠাৎ মনে হল যে ভুলতে চাইনা। যে কষ্ট আমাকে আস্তে আস্তে মেরে ফেলছে ভেতরে ভেতরে, যে তোমার স্মৃতিগুলো প্রতি নিয়ত আমাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে তার কিছুই ভুলতে চাইনা।
কেন জানো? এই স্মৃতিগুলো পেছনে ফেলে যদি হাঁটা দেই আমি তাহলে তোমাকেও পেছনে ফেলে আসতে হবে আমাকে।
এই তীব্র যন্ত্রনার মাঝে তুমি আছো আর তুমি আছো আমার সাথে এই অনুভূতিটা আমি যেতে দেব কিভাবে?
কোনো ভাবে আমার সাথে আছো আর এভাবেই নাহয় ভালোবাসলাম তোমাকে আমি।

 

আমার ডায়েরীর পাতা থেকে

 

আমাদের গল্পের আরেক পাতা

জানি না আমার শব্দগুলো তোমার কাছে পৌছাবে কি না কোন দিন।
তারপরও লিখে যাবো তোমার জন্য।
আজ হঠাৎ সন্ধ্যা থেকে খুব মনে পড়ছিল তোমার কথা।
নিজের অজান্তে হয়তো চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি।
দেখতে পায় রোজ তোমাকে ছবিতে।
মাঝে মাঝে তোমার হাসিমাখা মুখ।
খুব কি দরকার ছিল ছেড়ে চলে যাওয়ার?
জানি না মনে পড়ে কি না তোমার আমাকে।
আজও এক মুহুর্ত তোমাকে ছাড়া নাই আমি।
সুরটা কেটে গেছে তোমার জন্য আমি জানি।
কিন্তু আমি ধরে রেখেছি।
ধরে রেখেছি তোমাকে আমার মধ্যে।
ঘুমাতে পারি না।
ঘুম নিয়ে গেলে আমার, কিন্তু স্বপ্নগুলো কেন নিলে বলতে পারো?
ওই স্বপ্নগুলো ছিল শুধু আমার যা নিয়ে বেঁচে থাকতে পারতাম আমি।
আমি দশ জনের মত না নিশীথ তুমি এটা ভুলে গেলে।
আর চেষ্টা করি না তোমাকে মনে করার আমি কিন্তু না চাইতে যে তুমি আমার মধ্যেই আছো সেই আমার মধ্যে তোমার থেকে কিভাবে দূরে থাকব আমি বলতে পারো?
একবার ফিরে চাও। দেখতে পাবে আমাকে।
ছেলেমানুষী করছি ভাবতে পারে সবাই আমাকে নিয়ে আমি জানি।
কিন্তু এটা কি আসলেই ছেলেমানুষী?
একবার কাউকে নিজের অস্তিত্বের সবটুকু দিয়ে ভালোবাসার পরে কি আর সবকিছু থাকে আগের মত বলতে পারো কি?
এটুকু জেনো যে ভালোবাসি।
অপেক্ষা না তোমার জন্য আমি প্রতিক্ষা করব……

 

KaziMustakim_All Rights Reserved © 2017

ভালোবাসা কমেনি একটুও

মাঝে মাঝে হঠাৎ অনেক কষ্টের ভীড়ে
একটা মানুষের দেয়া কষ্টটা যেন সব কষ্টকে ছাড়িয়ে যায়।
অন্য সব কষ্টের অনুভূতিগুলো যেন ভোঁতা হয়ে যায়।
ওই একটা মানুষের দেয়া কঠিন সব কথাগুলো বার বার ফিরে আসে দুঃস্বপ্নের মত।
প্রত্যেকটা শব্দের
কষ্টের
মুহুর্তের যেন প্রতিধ্বনি হয়।
তুমি কি জানতে না আমার কষ্ট অতীতের কথা?
প্রশ্ন করেছো বার বার।
তাহলে কি শুনতে পাওনি?
নাকি দেখতে পাওনি আমার চোখে?
নাকি অনুভব করোনি আমাকে?
আমার জীবন নামের বইটার প্রত্যেকটা অধ্যায় তোমার পড়া ছিল তাই না?
যে পথ আমি পাড়ি দিয়ে তোমার কাছে এসেছিলাম সে পথ তুমি হাটোঁ নি আমি জানি কিন্তু দেখা হওয়ার পরে তো অনেকটা পথ হেঁটেছি তোমার সাথে তাই না? – তখন কি বোঝোনি এই আমাকে?
যা আমি দেখেছি তা তোমার দেখা হয়নি আমি মেনে নিলাম।
আমার অতীত এই আমি না কিন্তু সেই অতীত আমাকে সৃষ্টি করেছে।
এটাই তো আমি। আর এই আমাকেই বলেছিলে – ভালোবাসি।
তবে আজ কেন আমাকে দেখতে পাওনা তুমি?
কেন শুনতে পাওনা?
কেন আর চাওনা আমাকে?
তবে কি এটাই আমার নিয়তি?
এই না দেখতে পাওয়া আমি সেই আমিই আছি জানো?
যে তুমি আমাকে হাতটা ধরে অন্ধকার থেকে বের করে এনেছিলে আজ সেই তুমি কেন আমাকে আবার সেই অন্ধকারে ছুঁড়ে ফেলে দিলে বলতে পারো কি?
যে স্বপ্নের দুনিয়াটা একসাথে গড়েছিলাম সেটা নিজের পায়ে মাড়িয়ে গেলে..
সব আজ এলোমেলো আমার…
যেভাবে সবটা হবে ভেবেছিলাম কিছুই তার হয়নি…..
একরাশ চাপা কষ্টের বোঝা আজ আমার আত্মা বয়ে বেড়াচ্ছে প্রতিনিয়ত…
অন্তর থেকে অনুভব করি হারিয়ে ফেলেছি নিজেকে…
নিজেকে খুঁজে পাইনা আমি আর কোথাও…
অসম্ভব এক যন্ত্রনার জালে আমি আটকা পরেছি তোমার কারণে…
আলো দেখতে পাইনা আমি আর….
সকাল দেখতে পাইনা আমি আর…
অনুভূতিগুলোর মৃত্যু হয়েছে……
স্বপ্নগুলোর অকাল মৃত্যু হয়েছে আমার….
আমাবস্যার অন্ধকার যেন দিনের আলোর মাঝেও আজ…
কারো আত্মার মাঝে অন্ধকার রাত নামতে পারে জানা ছিল না…
চোখের সামনে আজ শুধুই অন্ধকার আমার…
ভাবছো হয়তো কেন?
সত্যি বলতে কি আমি জানিনা…!!
কোন কোন দিন চাই যে আর ভাববো না তোমাকে নিয়ে….
দিন শেষে সব চেষ্টা বৃথা হয়ে পড়ে চোখের বাধভাঙা জলে।
সব অর্থহীন হয়ে পড়ে যেন…
আবার দেখতে ইচ্ছা করে তোমার হাসিমাখা মুখ।
দেখতে ইচ্ছা করে তোমার অবাক চোখে আমার দিকে তাকিয়ে থাকা…
ইচ্ছা করে তোমার গলায় আবার একটা গান শুনতে..
মন চাই তোমার মাথা আমার কাঁধে অনুভব করতে আবার…
ইচ্ছাটা মরেনি তোমাকে ফিরে পাবার যেন…
যদিও জানি ফিরে আসতে চাওনা তুমি আর…
জানি না কে বলে তোমাকে এখন আমি আছি তোমার পাশে….
জানি না প্রত্যেক সকালে কার কণ্ঠে তোমার ঘুম ভাঙে আজ…
জানি না কে তোমার এক ডাকে সাড়া দিয়ে পাগলের মত ছুঁটে যাই তোমার কাছে আজ…
জানি না পথ চলতে কে তোমার হাতটা শক্ত করে ধরে থাকে…
আর একটা বার মন চাই তোমার মুখ থেকে শুনতে – ভালোবাসি….
পাগলপ্রায় আজ আমি তোমাকে ছাড়া…
উদ্ভ্রান্তের মত একা রাস্তায় হাঁটি আজ আমি…
তোমার ছায়া খুঁজে ফিরি আমার পাশে এখন আমি…
আমার অস্তিত্বের সবটুকু দিয়ে ভালোবেসেছিলাম আর আজ আমার অস্তিত্ব বিপন্ন তোমাকে ছাড়া…
শূন্যতা এতটা যন্ত্রনা দেয় জানা ছিলনা আমার…
একটু একটু করে জীবনের ওপড় আস্থা ফিরে আসছিল আমার আর আজ পায়ের নিচে মাটি নাই আমার…
একটু একটু করে শেকড় ছড়িয়ে যে গাছটা মহীরুহ হতে চেয়েছিল আজ কালবৈশাখী ঝড়ে মুখ থুবড়ে পরে মরতে বসেছে …
কিন্তু কি জানো ? ভালোবাসা কমেনি একটুও….

 

KaziMustakim_All Rights Reserved © 2017

আমাদের গল্প

মার্চ মাসের ১৮ তারিখ। সকালটা সেদিন শুরু হয়েছিল একটা অদ্ভুত অনুভূতি নিয়ে। কি যেন একটা চাপা আনন্দ কাজ করছিল। নিজের অজান্তেই অনেকবার মুখে হাসি আসছিল সেদিন। কেন? যদি বলি যে সেদিন প্রথম দেখা হল আমাদের। আমি ঢাকাতে থাকি আর তার এলাকা মিরপুরে, তার বাসার কাছেই থাকি শোনার পরে ওর যে সে কি আনন্দ। ভাবছিলাম কেন? আজ জানি আমি কেন।

পরিচয়টা কিভাবে?

ফেসবুকে পরিচয় আমাদের।

দেখা করব যেদিন ভেবেছিলাম আর দেখা করে বলব আমার অনুভূতিগুলো, সেদিন থেকেই কোন এক অজানা কারণে তাকে চলে যেতে হয়েছিল। ভাবিনি ফিরে আসবে সে।

একটা বছর পেরিয়ে গেল। মাঝে একবার কি দুবার কথা হয়েছিল ওর সাথে আমার। সেটা অনেক ফরমাল কথাবার্তা। সেখানে কোন অনুভূতির ছোঁয়া ছিল না। আমিও আর চাইনি বলতে। বলতে পারিনি একটা বছর আগে যে আমি ভালোবাসি তোমাকে।

অফিস থেকে বের হলাম। ভেতরের চাপা আনন্দটা ধরে রাখার বৃথা চেষ্টা করে যাচ্ছি।

নামলাম বাস থেকে মিরপুর ১০। ফোন দিলাম কোথায়। প্রথম কণ্ঠ শুনলাম তার। বলল আমি বইয়ের দোকানগুলোর কাছে। কিভাবে যেন অনেকের মাঝে থেকে পেছন থেকে বুঝলাম ওটাই ও ছিল।

গিয়ে বোকার মত বললাম – “কি অবস্থা”?

ওর বই কেনা শেষ হল আর আমরা রিকশা নিলাম। কাছেই একটা ফুচকার দোকানে বসলাম।

কোন এক অজানা কারনে সেদিন ওকে রাজ্যের লজ্জা পেয়ে বসেছিল।

আর আমি? মন্ত্রমুগ্ধের মত ওকে দেখছিলাম আর ভাবছিলাম – একটা মানুষ এত সুন্দর কিভাবে হয়?

মনে পড়ছিল সেদিন কাজী নজরুল ইসলামের “শিউলি মালা” গল্পের একটা লাইন – “চোখে এক ক্ণা বালি পড়তেই যদি চোখ এতো জ্বালা করে, চোখে যার চোখ পড়ে তার যন্ত্রনা বুঝি অনুভুতির বাইরে।”

আজহারের শিউলিকে দেখে ঠিক এ কথাটা কেন মনে হয়েছিল সেদিন ওর সামনে বসে ফুচকার দোকানে অন্তর থেকেই অনুধাবন করলাম কথাটার অন্তর্নিহিত অর্থ।

দুইটা ঘন্টা বকবক করলাম। সেদিন চেয়েছিলাম সময়টা থেমে যাক।

সময় থামে নি। আমাদের গল্পটাও না।

অনেকটা পথ হেঁটেছি দুজন একসাথে। কখনো এক মুহুর্তের জন্যেও ক্লান্তি আসে নি আমার। আসবেও না আমি জানি।

আজ অনেকটা দিন পেরিয়ে এসে আজ আমরা পেয়েছি একজন অন্যজনকে। পেয়েছি কোন সমাজের নিয়মকানুন মেনে না। এক স্বপ্নের দুনিয়াতে আমাদের বাস এখন। দূরে থাকি ওর থেকে আমি। সমাজ কিছু প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে দিয়েছে আমাদের জন্য। তাই দূরে থাকি।

কিন্তু ভালোবাসি পাগলের মত।

এটা তিক্ত এক সত্য আমাদের গল্পের।

একটা অপেক্ষা।

অপেক্ষা সেদিনের যেদিন আমরা হয়তো কাছে আসব একজন অন্যজনের।

নাহলে এভাবেই থাকব।

থেকে যাব হয়তো।

এটাই আমাদের গল্প।